রবিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১২

আল্লাহর অস্তিত্তের সপক্ষে যুক্তি (part:1)



এখন বিজ্ঞানের যুগ। আমরা সবাই বিজ্ঞানের যুক্তি দিয়ে সবকিছু বোঝার বা বোঝানোর চেষ্টা করি। বিজ্ঞানের অবদান আমরা কখনো অস্বীকার করতে পারবো না। কেননা বর্তমানের সবকিছুই বিজ্ঞানের অবদান। এখন আমি যেটা নিয়ে আলোচনা করবো টা হলো আল্লাহর/সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব নিয়ে।
নাস্তিক সম্পর্কে কিছু কথা: যারা আল্লাহকে বিশ্বাস করে না তাদের আমারা নাস্তিক বলে থাকি। এরা খুবই যুক্তিবাদি আর বাস্তববাদী হয়ে থাকে। এরা নিজেদের অনেক জ্ঞানী মনে করে। এরা সাধারণত উচ্চ শিক্ষিত হয়ে থাকে। এরা অনেক মডার্ন চলাফেরা করে এবং বিজ্ঞান সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখে। তবে আমাদের দেশে বাংলা ব্লগ/ওয়েবসাইটে অনেক নাস্তিক পাওয়া যায় যারা মোটেও যুক্তিবাদি না । এরা ধর্ম নিয়ে কথা শুনলে খুব সুন্দর করে উপহাস করতে পারে। এরা জ্ঞানীও নয় উচ্চ শিক্ষিতও নয় আর বিজ্ঞান সম্পর্কে কতটুকু জ্ঞান রাখে সেটা নাই বললাম। এরা বড় বড় নাস্তিকদের  (লেখক/বিজ্ঞানি) অনুসরন করে।
শুরু করার আগে একটা কথা বলে রাখা ভালো আপনারা জানেন যে বিজ্ঞান পরিবর্তনশীল। বিজ্ঞান আজ যা বলে কাল সেটা ভুল ও প্রমাণিত হতে পারে । যেমন: কুর্‌আনে বলা হয়েছে যে সূর্য ঘূর্ণায়মান কিন্তু বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছিল যে পৃথিবী ঘূর্ণায়মান সূর্য স্থির। তখন তারা কুর্‌আনকে নানা ভাবে অবমাননা করে। কিন্তু এখন বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছে যে মহাবিশ্বের কোন কিছুই স্থির না এমনকি সূর্য কাউকে না কাউকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। তবে কষ্টের কথা এটাই যে এই পরিবর্তনশীল বিজ্ঞানের তত্ত্ব দিয়েই সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের পক্ষে যুক্তি দিতে হয়। কারণ কুর্‌আন যেটা বলে আমরা সেটা বিশ্বাস করি না কিন্তু বিজ্ঞান বললে সেটা চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করি। আমি আমার কথা গুলো ধারাবাহিক পোষ্টের মাধ্যমে লিখব, আজকে পদার্থ বিজ্ঞানে আলোকে লিখছি ।
পর্দাথ বিজ্ঞান ও সৃষ্টিকর্তা: যারা আল্লাহ বিশ্বাস করে না তাদেরকে যদি প্রশ্ন করা হয় যে পৃথিবী কিভাবে সৃষ্টি হল ? তারা বলবে এমনি এমনি। কিন্তু তারা জানে না যে তাদের এই উত্তর তাদের বিজ্ঞানের সূত্রকে অস্বীকার করে। আমি physics নিয়ে পড়ালেখা করছি তাই আমার মনে হয় এই ব্যাপার এ আমি কিছুটা হলেও জানি। বস্তুত শুন্য থেকে কিছু সৃষ্টি হতে পারে না, পদার্থ ও শক্তির সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই শুধু রূপান্তর করা যায়। যেহেতু মহাবিশ্বের আদি থেকে এখন পর্যন্ত পদার্থ ও শক্তির পরিমাণের কোন পরিবর্তন হয় নি সেহেতু এরা নির্দিষ্ট এবং এদের সৃষ্টিকর্তা আছে, কারণ কোন পদার্থ এমনি এমনি সৃষ্টি হতে পারে না। কিন্তু বিজ্ঞান সবকিছুর ব্যাখ্যা দিতে চায়। এখন তারা নতুন একটা থিওরী দিল সেটা হল এন্টিম্যাটার। পদার্থ কে আমরা ম্যাটার বলি আর এন্টিম্যাটার হল তার বিপরীত ধর্মী একটা জিনিস। পদার্থের যেমন আঁকার আয়তন ওজন আছে এন্টিম্যাটার এর সেই রকম কিছুই নাই, এরা পরস্পর বিপরীত ধর্মি এবং এরা ম্যাটার অর্থাত্‍ পদার্থকে গ্রাস করে। যদি ম্যাটার আর এন্টিম্যাটার এক হয় তবে ম্যাটার বা পদার্থটি সম্পূর্ণ অদৃশ্য বা ধ্বংস হয়ে যাবে, যেটা physics এর সূত্রকেও অস্বীকার করে। তাদের মতে ম্যাটার+এন্টিম্যাটার =০ মানে সৃষ্টিকর্তার দরকার নাই। কী আজব থিওরী! বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত এন্টিম্যাটার কোথায় খুঁজে পাইনি, পৃথিবীতেও না আর পৃথিবীর বাইরেও না। এই সকল অনেক ব্যাপার আছে যেগুলো নিয়ে বিজ্ঞানীরা নিজেরাই সহমত না আর আমরা ওগুলো বিশ্বাস করে আমরা নিজেদের ঠকাই। বিজ্ঞানের একটা থিওরী অন্যটির সাথে সাংর্ঘসিক এবং এগুলো প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে বা ভুল প্রমাণিত হচ্ছে। কুর্‌আন এমন একটি গ্রন্থ যার কোথাও আজ পর্যন্ত কেও ভুল ধরতে পারেনি এর কোন কথা কোনটার সাথে সাংর্ঘসিক না। বড় বড় জ্ঞানি ব্যাক্তিরা কুর্‌আনের ভুল ধরতে গিয়ে এর ভক্ত হয় গেছে আর আমি আপনি কি জানি ?  কোন সাহসে আমারা একে উপহাস করি ? নিজের সীমাবদ্ধ জ্ঞান নিয়ে তর্ক করা ঠিক না। আমার কথা আপনার বিশ্বাস করার দরকার নেই। আপনি নিজে জানার চেষ্টা করুন আর সঠিক জিনিস জানুন আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করবেন। চলবে........,